ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রিম ৩৫০ বিলিয়ন বা ৩৫ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া প্রস্তাব ‘বাস্তবসম্মত নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সং-লাক। তিনি বলেছেন, ‘এটি দরকষাকষির কোনো কৌশল নয়। বরং নিরপেক্ষভাবে দেখলে ও বাস্তবতায় এটি আমাদের নাগালের বাইরে। আমরা ৩৫০ বিলিয়ন ডলার নগদে দিতে সক্ষম নই।’
গত জুলাইয়ে দুই দেশের নেতারা একটি ‘হ্যান্ডশেক ডিল’ বা অনানুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছান। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রমুখী রফতানির শুল্কহার ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হবে। তখন সিউল জানিয়েছিল, ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুত বিনিয়োগ মূলত ঋণ, ঋণ-জামানত ও ইক্যুইটির মাধ্যমে দেয়া হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এ অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণাধিকার দাবি করলে আলোচনা স্থবির হয়ে যায়।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘শুল্কনীতির ফলে প্রচুর অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে আসছে। জাপান থেকে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার ৩৫০ বিলিয়ন ডলার সবই অগ্রিম।’
ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর সিউল জানিয়েছে, তারা বিনিয়োগের অর্থ অগ্রিম দিতে রাজি নয়। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সং-লাক বলেন, ‘যদি এ অর্থকে নগদ অগ্রিম হিসেবে ধরা হয়, তবে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান নিয়ে কারো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।’
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বিপুল আকারে অগ্রিম ব্যয় দেশের অর্থনীতিকে সংকটে ফেলতে পারে। মুদ্রা-বিনিময় চুক্তির মতো নিরাপত্তা বলয় না থাকলে এ ঝুঁকি আরো বাড়বে।’
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১০ বিলিয়ন ডলার বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সিউল জানিয়েছে, বিকল্প সমাধান নিয়ে আলোচনা চলছে। আগামী মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার আয়োজনে এপেক শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে শুল্কচুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে রয়েছে। ওই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।